1 of 13

বাংলা সাহিত্যের আদি পর্বের গতি প্রকৃতি ও নিদর্শন সমূহ

2 of 13

বাংলা ও বাঙালির পরিচয়

  • বঙ্গদেশে বসবাসকারী বঙ্গভাষী মানুষই বাঙালি হিসাবে পরিচিত।
  • বাংলাদেশ বা বঙ্গভুমির ভৌগোলিক সীমানার বারবার পরিবর্তন ঘটেছে, নামেরও নানারূপ দেখা যায়। বঙ্গ, গৌড়, রাঢ়, সমতট– একসঙ্গে বঙ্গদেশ বা বাংলাদেশ।

3 of 13

* ৫ম-৬ষ্ঠ খ্রিস্টাব্দে গুপ্ত শাসনকালে এই বঙ্গদেশের সঙ্গে উত্তর ভারতের ঘনিষ্ঠতা হয়। এইসময় বেদ-উপনিষদ সংহিতার প্রভাব পড়তে শুরু করে।

4 of 13

  • এরপর বাংলার প্রথম স্বাধীন সার্বভৌম রাজা হন শশাঙ্ক (৫৯০-৬২৫ খ্রিঃ)।
  • তাঁর রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ।
  • তাঁর রাজত্বের শেষের দিকে বাংলায় অরাজক অবস্থার সৃষ্টি হয়।

5 of 13

  • এরপর বাংলার সিংহাসনে পাল রাজারা আসীন হন।
  • পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা গোপাল।
  • তারপর বাংলায় সেনবংশের রাজত্ব। (একাদশ-দ্বাদশ শতাব্দী)।
  • সেন বংশের শেষ রাজা লক্ষ্মণ সেনকে পরাজিত করে (১২০২ খ্রিঃ) বখতিয়ার খিলজি বাংলার সিংহাসনে বসেন।
  • এখান থেকে ১৭৫৭ খ্রিঃ পর্যন্ত বাংলায় ইসলামী শাসন।

6 of 13

  • পাল রাজারা ছিলেন বৌদ্ধ। তাঁরা বৌদ্ধ হলেও এখানকার স্থানীয় অধিবাসী ও ব্রাহ্মণ্য সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য স্থাপন করে চলতেন। অন্য ধর্মের প্রজাদের মর্যাদা দিতেন। ফলে বৌদ্ধদের সঙ্গে হিন্দুদের রেষারেষির সম্পর্ক অনেকটা স্বাভাবিক হয়েছিল।
  • সেন রাজাদের আমলে ধর্ম ও সংস্কৃতিতে ব্রাহ্মণ্য ধর্মের প্রভাব পড়েছিল।

7 of 13

  • বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও একমাত্র নিদর্শন চর্যাপদ।
  • কিন্তু তার আগে বাঙালিরা সংস্কৃত, প্রাকৃত, অপভ্রংশ ভাষায় বাংলার প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
  • যেমন-
  • সুভাষিত রত্নকোশ (কবীন্দ্রবচন সমুচ্চয়): বঙ্গদেশে ত্রয়োদশ শতকের পূর্বে সংকলিত, সংস্কৃতে লেখা। এখানে অনেক বাঙালি কবির পরিচয় মেলে- মধু শীল, রতি পাল, বীর্য মিত্র, বিনয় দেব প্রমুখ।

8 of 13

  • সদুক্তি কর্ণামৃত:

এই সংকলনটির সংকলনের সমাপ্তি ১২০৭ সালের প্রথম দিকে। সংকলক শ্রীধর দাস। তাঁর পিতা বটু দাস ছিলেন রাজা লক্ষ্মণ সেনের বন্ধু ও প্রতিরাজ (রাজ প্রতিনিধি)। সংকলনটিকে রাজা, অমাত্য থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের রচনাও স্থান পেয়েছে-লক্ষ্মণ সেন, কেশব সেন, রাজপুত্র দিবাকর, যোয়ী, উমাপতি ধর, গোবর্ধন আচার্য প্রভৃতির সঙ্গে যে নামগুলি বাঙালির পরিচয় বহন করে তাঁরা হলেন-কমল গুপ্ত, রবি গুপ্ত, কালিদাস নন্দী, যজ্ঞ ঘোষ, দিবাকর দত্ত, প্রভাকর দত্ত প্রভৃতি।

9 of 13

প্রাকৃত পৈঙ্গল

বঙ্গদেশে রচিত বা সংকলিত গ্রন্থগুলির মধ্যে আর একটির নাম 'প্রাকৃতপৈঙ্গল'।

  •  প্রাকৃত-অপভ্রংশ-অবহট্ওঠে কিছু কিছু লেখা হয়েছিল বাংলাদেশে। তবে মৈথিলী ও বাংলার লক্ষণ পাওয়া যায়। গ্রন্থটি চতুর্দশ শতাব্দীর, কিন্তু রচনাগুলি তার পূর্বের বলে অনুমান করা হয়।

10 of 13

প্রাক্-আধুনিক বাংলা সাহিত্য মূলত ধর্মকেন্দ্রিক। ধর্মকে অবলম্বন করে প্রাচীন বাংলা সাহিত্য একটি নিজস্ব অবয়ব পেয়েছিল। দেখা যায়, বৌদ্ধ ধর্মের প্রচার ও প্রসারের দিনগুলিতে বৌদ্ধ সহজিয়া সিদ্ধাচার্যরা তাঁদের শিষ্যদের ধর্ম পালন করবার কিছু নির্দেশাবলী প্রদান করেছিলেন। ইতিমধ্যে সাধারণ মানুষজন তন্ত্রকেন্দ্রিক বৌদ্ধধর্ম সম্পর্কে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। ফলে বাংলা সাহিত্যের সূচনাতে বৌদ্ধ ধর্মের একটি নেপথ্য ভূমিকা আছে।

বৌদ্ধধর্মের উদ্ভব: খ্রিস্টপূর্ব ৬ষ্ঠ-৫ম শতাব্দীতে মহাত্মা গৌতম বুদ্ধের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত।

11 of 13

  • পাল রাজাদের সময়ে 'সহজযান' ও 'বজ্রযান' মতাবলম্বী বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যগণ নিজেদের সাধনপ্রণালী, ধর্মীয় চিন্তা-চেতনা, তত্ত্ব-দর্শন প্রচার করতে থাকেন।
  • সিদ্ধাচার্যরা ব্রাহ্মণ্য শাসিত ধর্মকে মেনে নেননি। তাঁরা তত্ত্বানুসন্ধানে ও তত্ত্ব প্রচারে উৎসাহ দেখাননি। তবে তাঁরা ছিলেন আত্মপ্রত্যয়ী।
  • বৌদ্ধ সহজিয়া ধর্ম ও দর্শনের নানা গুহ্য তত্ত্বকথা সিদ্ধাচার্যরা তুলে ধরেছেন।

12 of 13

এখান থেকে যে প্রশ্নগুলি পরীক্ষায় আসতে পারে-

  • ১. বাংলা সাহিত্যের আদিপর্বে বৌদ্ধধর্ম ও সংস্কৃতিচর্চা কীভাবে প্রভাব বিস্তার করেছিল, তার পরিচয় দাও। অথবা, বাংলা সাহিত্যের আদিপর্বে বৌদ্ধধর্ম ও সংস্কৃতিচর্চা এবং বিবর্তনের পথরেখাটি পরিস্ফুট করো।১০
  • ২. টিকা লেখো- প্রাকৃত পৈঙ্গল, কবীন্দ্রবচন সমুচ্চয়, সদুক্তি কর্ণামৃত

13 of 13

ধন্যবাদ…ড. চন্দন বিশ্বাস