1 of 12

Jaina Philosophy

জৈন দর্শন

2 of 12

জৈনদর্শন

  • ভারতীয় দার্শনিক মতবাদগুলির মধ্যে নাস্তিক্যবাদী ধর্মদর্শনের অন্যতম হল জৈনদর্শন।

  • এই দর্শনের মূল বক্তব্য ছিল সকল জীবের জন্য শান্তি ও অহিংসার পথ গ্রহণ।

  • জৈন শব্দটি এসেছে 'জিন' শব্দ থেকে।জিন শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে 'জি' ধাতু থেকে।জিন শব্দের অর্থ হল জয়ী।যিনি সকলরকম কামনা,বাসনা, রাগ,দ্বেষ ইত্যাদি জয় করে মুক্তিলাভ করেছেন, তাদেরকে বলা হয় জিন। এই 'জিন'- এর জীবনাদর্শ যারা নিজেদের জীবনে অনুসরণ করেন , তাঁদের বলা হয় জৈন।

  • জৈন ধর্মে চব্বিশ জন জিনকে চিহ্নিত করা হয়েছে,যাঁদের বলা হয় তীর্থঙ্কর।তীর্থ শব্দটির অর্থ হল 'নদীর ঘাট বা 'সোপান'।তাই যে ব্যক্তিগণ সাধারণ মানুষকে সংসাররূপ জলাশয় থেকে উর্ত্তীণ হওয়ার সোপান রচনা করে দিয়েছেন, তাঁদেরকেই তীর্থঙ্কর বলা হয়।এই মতবাদের প্রতিষ্ঠাতা হলেন রিষবদেব,কনিষ্ঠতম হলেন বর্ধমান মহাবীর।

3 of 12

জৈনসম্প্রদায়

  • জৈনগণ দুটি সম্প্রদায় বিভক্ত- শ্বেতাম্বর ও দিগম্বর।
  • আচার- আচরণে, ত্যাগ ও বৈরাগ্যের ব্যাপারে শ্বেতাম্বরগণ নরমপন্থী আর দিগম্বরগণ চরমপন্থী।
  • দিগম্বর সম্প্রদায় সর্বত্যাগী,এমনকি তারা বসনও ত্যাগ করেছেন।আর শ্বেতাম্বর শ্রেণীভুক্ত সাধক সাদা পোশাক পরেন।
  • জৈনগণ প্রত্যক্ষ ছাড়াও অনুমান ও শব্দপ্রমানকে স্বীকার করেন।তাঁরা ক্ষিতি, অপ, তেজ ও মরুৎ ছাড়াও আকাশ ও কালকে অনুমানের দ্বারা স্বীকার করেছেন।
  • জৈন ধর্মের মূল গ্রন্থহল 'অগমা'।অপেক্ষাকৃত অপ্রধান গ্রন্থ হচ্ছে আচারঙ্গ সূত্র,উত্তর অধ্যয়ন সূত্র,সূত্র কৃতঙ্গ।
  • নির্বাণ বা মোক্ষলাভ মানবজীবনের পরম লক্ষ্য।

4 of 12

জৈন দর্শনের বৈশিষ্ট্য

1.বস্তুবাদী ও বহুত্ববাদী

জৈনদর্শন মতে যা আমরা প্রত্যক্ষ করি তা সত্য এবং সংখ্যায় বহু।জগতে দু-রকম বস্তুর অস্তিত্ব আছে-প্রাণবান ও প্রাণহীন।প্রত্যেক প্রাণবান বস্তুর আত্মা বা জীবন আছে,কাজেই জীবহিংসা বর্জন করা জৈন মতে পরম ধর্ম।জৈন ধর্মের আর একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হল অপরের মতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন।এই পরমতসহিষ্ণুতা জৈন দর্শনের অনেকান্তবাদের ওপর প্রতিষ্ঠিত।

5 of 12

2.জ্ঞানতত্ত্ব(Epistemology)

পদার্থের যথার্থ ধারণাকেই জ্ঞান বলে। জ্ঞান মুখ্যত দুই প্রকার-প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ

প্রত্যক্ষ জ্ঞান তিন প্রকার-ক) অবধি জ্ঞান খ) মনঃপর্যায় গ) কেবল জ্ঞান,ঘ)মতি ঙ)শ্রুত

পরোক্ষ জ্ঞান পাঁচ প্রকার-ক) স্মৃতি খ) প্রত্যাভিজ্ঞা গ) তর্ক ঘ)অনুমান ঙ) আগম

মিথ্যা জ্ঞান- ক)সংশয় খ)বিপর্যয় গ)অনধ্যবসায়

জৈন দর্শনে জ্ঞানকে আবার দুভাগে বিভক্ত করা হয়েছে-1.প্রমান 2. ন্যায়

6 of 12

3)জৈন ধর্মমত

  • -পার্শ্বনাথ তাঁর শিষ্যদের চতুর্যাম বা চারটি সংযম সাধনার উপদেশ দেন(চতুর্যাম)।হিংসা না করা,মিথ্যা না বলা, চুরি না করা, কোনো কিছুতে আসক্ত না হওয়া। জৈন ধর্মে ত্রিরত্নের পরিচয় পাওয়া যায়-যথার্থ বিশ্বাস, যথার্থ জ্ঞান, এবং যথার্থ কাম। এগুলির দ্বারা পার্থিব বন্ধন মোচন সম্ভব হয়।

7 of 12

4)জৈন অধিবিদ্যা(Metaphysics)�

  • অনেকান্তবাদ বা স্যাদ্ বাদ- স্যাদ্ বলতে বোঝায় - প্রত্যেক নয়।তর্ক শাস্ত্রে বচন দুই প্রকার- সদর্থক এবং নঞর্থক।
  • জৈনরা দুটি ধারণা নিয়ে একটি বস্তু বা সত্যের সম্ভবনার কথা বলেছেন।তাই এই মতবাদকে 'সপ্তভঙ্গি নয়' বলা হয়।

ক) স্যাদ্ অস্তি

খ)স্যাদ্ নাস্তি

গ)স্যাদ্ অস্তি ও নাস্তি

ঘ)স্যাদ্ অব্যক্তম

ঙ)স্যাদ্ অস্তি চ অবক্তব্যম্

চ)স্যাদ্ নাস্তি চ অবক্তব্যম্

ছ)স্যাদ্ অস্তি চ নাস্তি চ অবক্তব্যম্

8 of 12

4) জৈনদর্শনে দ্রব্য

- জৈন দর্শনে অনন্ত গুনবিশিষ্ট স্বতন্ত্র সত্তা বা বস্তু।দ্রব্য সদ্ বস্তু।দ্রব্যের দুটি ধর্ম- গুন ও পর্যায়।গুন হল নিত্য ধর্ম,আর পর্যায় অনিত্য ধর্ম।চৈতন্য 'আত্মা' নামক দ্রব্যের নিত্যধর্ম।আর কামনা, বাসনা,সুখ ও দুঃখ অনিত্য ও পরিবর্তনশীল ধর্ম বা পর্যায়।দ্রব্য স্বকীয় গুন ও পর্যায়ের মাধ্যমে অস্তিত্বশীল থাকে।

জৈনদর্শনের দু-ধরনের দ্রব্যের কথা বলা হয়েছে-জীব এবং আজীব

জীব: জীব বলতে আত্মকেই বোঝেন।

অজীব:অজীব এর প্রাণ কিংবা চৈতন্য কিছুই নেই।অজীব পাঁচ প্রকারের; যথা -কাল(সময়), দেশ(আকাশ), ধর্ম(গতির কারণ),অধর্ম(স্থিতির কারণ), পুদ্ গল(জড়)।

9 of 12

5)জৈন নীতিশাস্ত্র:(Jain Ethics)

জৈন নীতিশাস্ত্র ও ধর্ম অবিচ্ছেদ্য। জৈন মতে, জীব অসীম জ্ঞান, অনন্ত শক্তি ও অসীম আনন্দের অধিকারী।কর্মের সমষ্টি সমস্ত দুঃখের কারণ। তাই জৈন দর্শনে মানব - জীবনের উদ্দেশ্য হল সমস্ত কর্ম থেকে মুক্ত হওয়া। সেজন্য গৃহস্থ ও সন্ন্যাসী উভয়ের জন্য কিছু বিধিনিষেধ করেছেন।প্রজ্ঞা লাভ ও আচরণের পরিমার্জন এই দুটি প্রাধান্য পেয়েছে। এদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সম্যক দর্শন, সম্যক জ্ঞান ও সম্যক চরিত্র। এই তিনটি নীতি জৈন দর্শনের ত্রিরত্ন নামে পরিচিত।সম্যক দর্শন হল শ্রদ্ধা, ভক্তি ও বিকাশ।সম্যক জ্ঞান হচ্ছে তত্ত্বজ্ঞান আর সম্যক চরিত্র সদাচার ছাড়া আর কিছুই নয়।এই তিনটি মহামূল্য সম্পদকে জীবনচর্চায় স্থান দিতে হলে পাঁচটি ব্রত পালন করতে বলা হয়েছে।সেগুলি হল- অহিংসা, সত্য, অস্তেয়, ব্রহ্মচর্য ও অপরিগ্রহ। এইগুলিকে পঞ্চব্রত বলা হয়।

10 of 12

জৈনমতে ব্যাবহারিক শৃঙ্খলার নিতিসমুহ��

জৈন মতাদর্শে সম্যক আচরণ ও চরিত্র গঠনের জন্য সাতটি ব্যাবহারিক শৃঙ্খলার নীতি অপরিহার্য ।বন্ধন মুক্তির পথনির্দেশ এই নীতিগুলি

এই সাতটি প্রক্রিয়া ভাবসম্ভবের পক্ষে একান্ত আবশ্যক।

এই সাতটি প্রক্রিয়া হল-

  • ব্রত ( Brata or vows) নৈতিক জীবন গঠনের প্রতিজ্ঞা
  • সমিতি(Samiti or Careful attitudes) কোন জীবের যাতে ক্ষতি না হয় সে বিষয় সাবধানতা অবলম্বন।
  • গুপ্তি (Gupti or Restraints) দেহ-বাক্য-মনের সংযম
  • ধর্ম (Dharma or Observances) নৈতিক গুনাবলির উন্মেষসাধন
  • আনুপ্রেক্ষা ( Anupreksa or Meditation) গভীর চিন্তন ও ধ্যান
  • পরিষহজয় (Parisahajaya or Victory over troubles) সম্যক চরিত্র গঠন

11 of 12

আশ্রব ও সম্বর

জৈন মতে আশ্রব হল বন্ধনের কারণ, আর সম্বর হল মুক্তির কারণ।যখন পুদ্গলের পারমাণুগুলি আকর্ষণ করে এবং কার্মন শরীর (karman particles) গঠন করে তখন সেই অবস্থাকে বলে আশ্রব(Asrava)। সম্যক দর্শন, সম্যক জ্ঞান ও সম্যক জ্ঞান ও সম্যক চরিত্রের অনুশীলনের দ্বারা নতুন কর্মপ্রবাহের অনুপ্রবেশ বন্ধ হয়, এই অবস্থাকে বলে সম্বর।

12 of 12

জৈন দর্শনের শিক্ষাগত তাৎপর্য

  • অনেকান্তবাদ ও শিক্ষা
  • শিক্ষায় গণতান্ত্রিকতা
  • বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয়
  • সভিক্ষা ও অহিংসা
  • জৈন দর্শন ও শিক্ষক
  • কর্মশিক্ষা ও জৈন দর্শন