Jaina Philosophy
জৈন দর্শন
জৈনদর্শন
জৈনসম্প্রদায়
জৈন দর্শনের বৈশিষ্ট্য
1.বস্তুবাদী ও বহুত্ববাদী
জৈনদর্শন মতে যা আমরা প্রত্যক্ষ করি তা সত্য এবং সংখ্যায় বহু।জগতে দু-রকম বস্তুর অস্তিত্ব আছে-প্রাণবান ও প্রাণহীন।প্রত্যেক প্রাণবান বস্তুর আত্মা বা জীবন আছে,কাজেই জীবহিংসা বর্জন করা জৈন মতে পরম ধর্ম।জৈন ধর্মের আর একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হল অপরের মতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন।এই পরমতসহিষ্ণুতা জৈন দর্শনের অনেকান্তবাদের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
2.জ্ঞানতত্ত্ব(Epistemology)
পদার্থের যথার্থ ধারণাকেই জ্ঞান বলে। জ্ঞান মুখ্যত দুই প্রকার-প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ
প্রত্যক্ষ জ্ঞান তিন প্রকার-ক) অবধি জ্ঞান খ) মনঃপর্যায় গ) কেবল জ্ঞান,ঘ)মতি ঙ)শ্রুত
পরোক্ষ জ্ঞান পাঁচ প্রকার-ক) স্মৃতি খ) প্রত্যাভিজ্ঞা গ) তর্ক ঘ)অনুমান ঙ) আগম
মিথ্যা জ্ঞান- ক)সংশয় খ)বিপর্যয় গ)অনধ্যবসায়
জৈন দর্শনে জ্ঞানকে আবার দুভাগে বিভক্ত করা হয়েছে-1.প্রমান 2. ন্যায়
3)জৈন ধর্মমত
4)জৈন অধিবিদ্যা(Metaphysics)�
ক) স্যাদ্ অস্তি
খ)স্যাদ্ নাস্তি
গ)স্যাদ্ অস্তি ও নাস্তি
ঘ)স্যাদ্ অব্যক্তম
ঙ)স্যাদ্ অস্তি চ অবক্তব্যম্
চ)স্যাদ্ নাস্তি চ অবক্তব্যম্
ছ)স্যাদ্ অস্তি চ নাস্তি চ অবক্তব্যম্
4) জৈনদর্শনে দ্রব্য
- জৈন দর্শনে অনন্ত গুনবিশিষ্ট স্বতন্ত্র সত্তা বা বস্তু।দ্রব্য সদ্ বস্তু।দ্রব্যের দুটি ধর্ম- গুন ও পর্যায়।গুন হল নিত্য ধর্ম,আর পর্যায় অনিত্য ধর্ম।চৈতন্য 'আত্মা' নামক দ্রব্যের নিত্যধর্ম।আর কামনা, বাসনা,সুখ ও দুঃখ অনিত্য ও পরিবর্তনশীল ধর্ম বা পর্যায়।দ্রব্য স্বকীয় গুন ও পর্যায়ের মাধ্যমে অস্তিত্বশীল থাকে।
জৈনদর্শনের দু-ধরনের দ্রব্যের কথা বলা হয়েছে-জীব এবং আজীব
জীব: জীব বলতে আত্মকেই বোঝেন।
অজীব:অজীব এর প্রাণ কিংবা চৈতন্য কিছুই নেই।অজীব পাঁচ প্রকারের; যথা -কাল(সময়), দেশ(আকাশ), ধর্ম(গতির কারণ),অধর্ম(স্থিতির কারণ), পুদ্ গল(জড়)।
5)জৈন নীতিশাস্ত্র:(Jain Ethics)�
জৈন নীতিশাস্ত্র ও ধর্ম অবিচ্ছেদ্য। জৈন মতে, জীব অসীম জ্ঞান, অনন্ত শক্তি ও অসীম আনন্দের অধিকারী।কর্মের সমষ্টি সমস্ত দুঃখের কারণ। তাই জৈন দর্শনে মানব - জীবনের উদ্দেশ্য হল সমস্ত কর্ম থেকে মুক্ত হওয়া। সেজন্য গৃহস্থ ও সন্ন্যাসী উভয়ের জন্য কিছু বিধিনিষেধ করেছেন।প্রজ্ঞা লাভ ও আচরণের পরিমার্জন এই দুটি প্রাধান্য পেয়েছে। এদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সম্যক দর্শন, সম্যক জ্ঞান ও সম্যক চরিত্র। এই তিনটি নীতি জৈন দর্শনের ত্রিরত্ন নামে পরিচিত।সম্যক দর্শন হল শ্রদ্ধা, ভক্তি ও বিকাশ।সম্যক জ্ঞান হচ্ছে তত্ত্বজ্ঞান আর সম্যক চরিত্র সদাচার ছাড়া আর কিছুই নয়।এই তিনটি মহামূল্য সম্পদকে জীবনচর্চায় স্থান দিতে হলে পাঁচটি ব্রত পালন করতে বলা হয়েছে।সেগুলি হল- অহিংসা, সত্য, অস্তেয়, ব্রহ্মচর্য ও অপরিগ্রহ। এইগুলিকে পঞ্চব্রত বলা হয়।
জৈনমতে ব্যাবহারিক শৃঙ্খলার নিতিসমুহ��
জৈন মতাদর্শে সম্যক আচরণ ও চরিত্র গঠনের জন্য সাতটি ব্যাবহারিক শৃঙ্খলার নীতি অপরিহার্য ।বন্ধন মুক্তির পথনির্দেশ এই নীতিগুলি
এই সাতটি প্রক্রিয়া ভাবসম্ভবের পক্ষে একান্ত আবশ্যক।
এই সাতটি প্রক্রিয়া হল-
আশ্রব ও সম্বর
জৈন মতে আশ্রব হল বন্ধনের কারণ, আর সম্বর হল মুক্তির কারণ।যখন পুদ্গলের পারমাণুগুলি আকর্ষণ করে এবং কার্মন শরীর (karman particles) গঠন করে তখন সেই অবস্থাকে বলে আশ্রব(Asrava)। সম্যক দর্শন, সম্যক জ্ঞান ও সম্যক জ্ঞান ও সম্যক চরিত্রের অনুশীলনের দ্বারা নতুন কর্মপ্রবাহের অনুপ্রবেশ বন্ধ হয়, এই অবস্থাকে বলে সম্বর।
জৈন দর্শনের শিক্ষাগত তাৎপর্য