সহজ পাঠ
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
স্মৃতিমেদুরতা
নস্টালজিক..
ভূমিকা:
শিক্ষার প্রসার ও বিকাশে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সহজপাঠ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অনবদ্য সৃষ্টি।
শিশুপাঠ্য বই হিসাবে সহজপাঠ স্বাতন্ত্র্যতার পরিচয় বহন করে।
বর্তমান সময়েও শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য রচিত এই পাঠ্য বই খুবই প্রাসঙ্গিক।
ছোট ছোট শিশুদের মনের উপযোগী করে তদানীন্তন সময়ের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয়, অর্থনৈতিক প্রভৃতি বিষয়গুলি উপস্থাপিত করেছেন। শিশুদের সাথে পরিচয় ঘটিয়েছেন গ্রাম, শহর, সম্প্রীতি, ধর্ম, বর্ণ, আচার-আচরণ ইত্যাদি বিষয়ের সাথে।
সহজ পাঠ ও শিশুর বিকাশ
কেন তিনি সহজ পাঠ লিখলেন?
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শান্তিনিকেতনের শিশুদের জন্য সহজপাঠ গ্রন্থটি লিখেছেন, কারণ তিনি চেয়েছিলেন শিশুদের জন্য সহজ, সাবলীল চলিত ভাষায় বাংলা বর্ণমালার প্রাথমিক জ্ঞান ও সাহিত্যের মৌলিক বিষয়গুলি শেখানোর একটি নতুন পদ্ধতি চালু করতে। বিদ্যাসাগরের বর্ণপরিচয়ের কঠিন ভাষার বিপরীতে, সহজপাঠের উদ্দেশ্য ছিল শিশুদের মনের উপযোগী করে, আনন্দদায়ক ও স্বাভাবিক উপায়ে শিক্ষা প্রদান করা এবং তাদের সামগ্রিক বিকাশে সহায়তা করা।
কিছু তথ্য
১ম ও ২য় ভাগ প্রকাশিত হয়- ১৩৩৭ বঙ্গাব্দে।
৩য় ও ৪র্থ ভাগ প্রকাশিত হয়- ১৩৪৭ বঙ্গাব্দে।
সহজপাঠের অলংকরণ করেন- নন্দলাল বসু
৩য় ও ৪র্থ ভাগের সম্পাদক- ক্ষিতীশ সিংহ
আমার পড়ানোর বিষয় ৩য় ও ৪র্থ ভাগ
৩য় ভাগের
সূচিপত্র
৪র্থ ভাগের সূচিপত্র
আজ পড়াবো (৩য় ভাগ)
১. সার্থক জনম আমার- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
২. সর্দার মশাই- নিত্যানন্দবিনোদ গোস্বামী
৩. তাল গাছ- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
৪. গণ্ডার শিকার- তেজেশচন্দ্র সেন
৫. বর্বর- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সার্থক জনম আমার- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সার্থক জনম আমার’ কবিতার মূল বিষয়বস্তু হলো দেশপ্রেম, মাতৃভূমির প্রতি গভীর ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা, এবং দেশের স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও স্নেহময়তার প্রতি কবির মুগ্ধতা। কবি তাঁর জন্মভূমি, ভারতবর্ষকে ধন্যবাদ জানান কারণ তিনি এখানে জন্ম নিয়ে মাতৃভূমির শীতল ছায়ায় শান্তি ও আনন্দ খুঁজে পেয়েছেন এবং দেশকে ভালোবেসে নিজেকে সার্থক মনে করেন।
সর্দার মশাই- নিত্যানন্দবিনোদ গোস্বামী
তাল গাছ- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'তালগাছ' কবিতার বিষয়বস্তু হলো একটি তালগাছের মাধ্যমে মানবজীবনের আকাঙ্ক্ষা, কল্পনা এবং শিকড়ের প্রতি টান ফুটিয়ে তোলা। কবিতাটিতে তালগাছ তার পাখাভাঙ্গা ডানা দিয়ে আকাশে উড়ে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করে, কিন্তু বাতাসের খেলা থেমে গেলে মাটির টানে আবার নিজের শিকড়ে ফিরে আসে। এর মাধ্যমে কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে, মানুষও জীবনে অনেক স্বপ্ন দেখে, কিন্তু সব স্বপ্ন পূরণ হয় না এবং অবশেষে সে নিজের জন্মভূমি ও শিকড়ের কাছেই ফিরে আসে।
গণ্ডার শিকার- তেজেশচন্দ্র সেন
বর্বর- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বর্বর’ কবিতাটি 'সহজ পাঠ' বইয়ের একটি অংশ, যেখানে কবি মানুষের আদিম ও আদিম সত্তার প্রতিচ্ছবি তুলে ধরেছেন, যা সভ্যতা ও প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে গেছে বা চাপা পড়ে গেছে। এই কবিতায় তিনি সভ্যতা, প্রকৃতি ও মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং সভ্যতার নামে ঘটে যাওয়া অন্যায় ও নিষ্ঠুরতার প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তুলেছেন।
ধন্যবাদ….
ড. চন্দন বিশ্বাস