1 of 10

বৌদ্ধদর্শন

বুদ্ধং শরনং গচ্ছামি

ধর্মং শরনং গচ্ছামি

সংঘং শরনং গচ্ছামি

2 of 10

বৌদ্ধ দর্শন

ঐতিহাসিক মত অনুযায়ী বুদ্ধদেব 483 খ্রিস্টপূর্বাব্দে 80 বছর বয়সে দেহত্যাগ করেন।হিমালয়ের প্রাচীন কপিলাবস্তু নগরে শাক্যবংশের এক রাজপরিবারে খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে বৌদ্ধ ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা সিদ্ধার্থ বা গৌতম বুদ্ধের জন্ম হয়। জরা-ব্যাধি ও মৃত্যুর দৃশ্য দেখে তিনি উপলব্ধি করেছিলেন এই জগৎ দুঃখে পরিপূর্ন।রাজ ঐশ্বর্য্য ত্যাগ করে মানব দুঃখ মোচনের পথ আবিষ্কারের তিনি ব্রতী হন।তার জন্য তিনি ধর্মবানী প্রচার করেছেন।তাঁর আধ্যাত্মিক উপলব্ধি বৌদ্ধ দর্শনের ভিত্তি।

3 of 10

বৌদ্ধ দর্শনের মূলভিত্তি

বুদ্ধদেবের জীবনচর্চা ও দর্শন আদি বৌদ্ধদর্শনের মূলভিত্তি।

বুদ্ধদেবের তপস্যালব্ধ জ্ঞান বা উপদেশ বৌদ্ধধর্ম ও বৌদ্ধদর্শনের মর্মবাণী।

পিটক-বুদ্ধদেবের তিরোধানের পর তাঁর শিষ্যরা তাঁর উপদেশগুলিকে গ্রন্থের আকারে সংরক্ষিত করেন।এই গ্রন্থগুলিকে পিটক বলা হয়।পিটকের সংখ্যা তিনটি

1.সূত্র পিটক: বুদ্ধদেবের উপদেশ ও বাণী

2. বিনয় পিটক: ভিক্ষুদের পালনীয় কর্তব্য

3.অভিধম্মপিটক:বৌদ্ধদর্শন ও তত্ত্ব

আত্মা দেহ থেকে পৃথক সত্তা কিনা? আত্মার অস্তিত্ব আছে কিনা?

এই জগৎ নিত্য না অনিত্য ইত্যাদি অধিবিদ্যা তিনি আলোচনা করেন নি।

আর্যসত্য

4 of 10

আর্যাসত্য

  • দুঃখ আছে
  • দুঃখের কারণ আছে: দুঃখের কারণ হিসেবে গৌতম বুদ্ধ বারটি উপাদানের কথা বলেছেন- অবিদ্যা, সংস্কার,চেতনা বা বিজ্ঞান, নামরূপ,ষড়ায়তন, স্পর্শ,বেদনা বা অনুভূতি, তৃষ্ণা,উপাদান বা বিষয়ানুরাগ,ভব,জাতি,জরা মরণ।(দ্বাদশ নিদান বা ভবচক্র)
  • দুঃখের নিরোধ ঘটানো সম্ভব।
  • দুঃখ নিরোধের পথ বা উপায় আছে।

5 of 10

অষ্টাঙ্গিক মার্গ

সম্যক দৃষ্টি

সম্যক সংকল্প

সম্যক বাক্

সম্যক কর্মান্ত

সম্যক আজীব

সম্যক ব্যায়াম

সম্যক স্মৃতি

সম্যক সমাধি

6 of 10

বৌদ্ধ জ্ঞানতত্ত্ব

ত্যজ্ঞান:সত্যজ্ঞান সম্পর্কে বৌদ্ধ দর্শনে বলা হয়েছে, যে জ্ঞান ঈপ্সিত বস্তুকে লাভ করতে সহায়তা করে,সএই জ্ঞানই প্রকৃত জ্ঞান।বস্তুর প্রাপ্তিই প্রকৃত জ্ঞানের লক্ষণ।জ্ঞান লাভের দুটি প্রমান বা পদ্ধতি i) প্রত্যক্ষ এবং ii) অনুমান

প্রত্যক্ষের মাধ্যমে বস্তু তার স্বরূপ গৃহীত হয় ।অপরদিকে অনুমানের মাধ্যমে বস্তুজ্ঞান সাধারান লক্ষণ হিসেবে প্রকাশিত পাওয়া যায়।

ইন্দ্রিয় প্রত্যক্ষনের মাধ্যমে কোনো বিষয় বা বস্তু কতখানি প্রকাশিত হয়,সে বিষয় মতভেদ ঘটলে পরবর্তীকালে চার প্রকার বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের উদ্ভব ঘটে।যথা- বৈভাষিক, সৌতান্ত্রিক,যোগাচার, ও মাধ্যমিক।

7 of 10

প্রত্যক্ষ

প্রত্যক্ষ দুই প্রকার

ক) নির্বিকল্প-যে প্রত্যক্ষে বস্তুর জ্ঞান হয়,কিন্তু তার প্রকার বা নাম সম্পর্কে কোন জ্ঞান হয় না,তাকে বলে নির্বিকল্প।যেমন-চক্ষু ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে কোন ঘট প্রত্যক্ষ করলে সেটি যে একটি বস্তু সে সম্পর্কেই শুধু জ্ঞান হয়, কিন্তু তার আকার বা নাম সম্পর্কে কোন জ্ঞান হয় না।

খ) সবিকল্প-যে প্রত্যক্ষ বস্তু এইরূপ বা এই প্রকার - এই ধরণের জ্ঞান হয় ,তাকে বলে সবিকল্প প্রত্যক্ষ।যেমন- চক্ষু ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে কোন ঘট প্রত্যক্ষ করায় দ্বিতীয় ক্ষনে আমরা বুঝতে পারি যে এটি একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন ঘট।

8 of 10

অনুমান ও মন

  • অনুমানের দ্বারা জ্ঞান আহরণ করা যায় ।এর মাধ্যমেও বস্তু প্রাপ্তি হতে পারে এবং তার দরুন ব্যবহারিক জ্ঞান লাভ হতে পারে।
  • মন- মনের সাহায্যে কিভাবে জ্ঞান সংগ্রহ করা যায় তা বৌদ্ধদর্শনে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।মনের দুটি গুন বর্তমান( উভয় প্রকার গুণই কিছু সার্বজনীন কিছু বিশেষধর্মী।
  • সার্বজনীন গুন-স্পর্শ,বেদনা,চেতনা,সংজ্ঞা, জীবীতিন্দ্রিয়,মনোসিকার।(কোনো বিষয় সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দেয়)
  • মন্দ গুন-মোহ, নির্লজ্জতা,মনোযোগের অভাব,অনুতাপের অভাব,ভ্রান্তি এবং লোভ।(জ্ঞান আহরণে বাধা সৃষ্টি করে)

9 of 10

দার্শনিক তত্ত্ব

বুদ্ধদেব তাঁর তাত্ত্বগুলি নীতিশাস্ত্র ও দার্শনিক তত্ত্বের ওপর প্রতিষ্ঠিত করে গিয়েছেন।এই তাত্ত্বগুলি হল-

i)প্রতীত্যসমুৎপাদ নীতি

ii)কর্মবাদ

iii)অনিত্যবাদ বা ক্ষণিকবাদ

iv)নৈরাত্মবাদ বা অনাত্মবাদ

v)বৌদ্ধ দর্শন সম্প্রদায়-যোগাচার,মাধ্যমিক,সৌতান্ত্রিক,বৈভাষিক,হীনযান ও মহাযান সম্প্রদায়।

10 of 10

শিক্ষাক্ষেত্রে বৌদ্ধদর্শনের প্রভাব

  • শিক্ষার সমান অধিকার
  • প্রবজ্জা
  • শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক
  • পাঠ্যক্রম
  • শিক্ষার মাধ্যম
  • শিক্ষার পদ্ধতি
  • সমাজসেবা
  • গনতান্ত্র
  • উপসম্পদা